চট্টগ্রাম, ৩১ আগষ্ট ২০২৫ইং (দৈনিক দেশপ্রেম রিপোর্ট): চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রবিবার দুপুরে ফের স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটের দিকে ক্যাম্পাসের ২ নম্বর গেট-সংলগ্ন জোবরা গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর তিন দিক থেকে আক্রমণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে আহত হয়েছেন প্রায় ৫০ জনের মতো শিক্ষার্থী।
এ সময় প্রক্টর (উপ-উপাচার্য, প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন স্থানীয়দের ধাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে নিরাপত্তা কর্মীদের সহায়তায় গাড়িতে করে তাকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। সম্প্রতি অধ্যাপক কামালের বাম হাতে অস্ত্রোপচার হয়েছে। তিনিসহ প্রশাসনের অন্যরা ঘটনা সমাধানের চেষ্টা করছিলেন।
এছাড়া প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ ইটের আঘাতে আহত হন। পরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে চবি মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য যান তিনি।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এক পাশে কয়েক শ শিক্ষার্থী অবস্থান নেন। বিপরীত দিকে অবস্থান নেন স্থানীয়রা। এ সময় সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, মো. কামাল উদ্দিন, প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফসহ শিক্ষকেরা দুই পক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। সশস্ত্র স্থানীয়রা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা শুরু করে। তারা রামদা দিয়ে কয়েকজনকে কুপিয়ে আহত করে। আহত অবস্থায় অন্তত ১০ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের দিকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। তাদের মাথা থেকে রক্ত ঝরছিল। তবে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করছে। রবিবার সকাল থেকে প্রধান ফটক বন্ধ করে জিরো পয়েন্ট এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় হামলায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন তারা। একপর্যায়ে ক্যাম্পাসের পাশে রাতের সংঘর্ষের স্থানে গেলে স্থানীয় লোকজনও লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে আসেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ২ নম্বর গেটের কাছে শাহাবুদ্দীন ভবন নামের একটি বাসায় বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের নারী শিক্ষার্থীকে দারোয়ান কর্তৃক মারধরের মাধ্যমে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাসজুড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো থেকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে আসে ২ নম্বর গেটের দিকে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই মেয়ে শিক্ষার্থী রাত করে আসায় বাসার দরজা খুলতে অপারগতা জানান দারোয়ান। পরে ওই বাসার আরও কিছু মেয়ে শিক্ষার্থী এসে দরজা খোলার জন্য জোর করে। পরে গেট খোলার পর ওই দারোয়ান ও মেয়ে শিক্ষার্থীর মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ওই মেয়ে শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তুলে দারোয়ান।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, আমি রাত ১১টা ২০ মিনিটে বাসায় আসি, তখন গেট লাগানো ছিল। এমনিতে রাত ১২টা পর্যন্ত বাসায় ঢোকা যায়। আমি অনেকক্ষণ ধরে ডাকছিলাম গেট খোলার জন্য কিন্তু দারোয়ান গেট খুলছিলেন না। একপর্যায়ে যখন আমার রুমমেটরা দরজা খুলতে তাকে বাধ্য করল তখন তিনি আমার ওপর চড়াও হন। আমাকে মারধর করেন আমার গায়ে হাত তোলেন। ঘাড়ে চড় মারেন।
এ ঘটনার জের ধরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল দিবাগত রাত ১২ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২নং গেইট সংলগ্ন এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা বহু শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর রবিবার (৩১ আগস্ট) সকাল থেকেই পুরো ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ ছাড়া আহতদের কথা বিবেচনায় নিয়ে আজকের সব পরীক্ষা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
Leave a Reply